বাসে বমি হওয়ার কারণ সাধারণত মোশন সিকনেস নামে পরিচিত একটি অবস্থার কারণে হয়। এটি গতিজনিত অসুস্থতা নামেও পরিচিত।
মূলত, আমাদের মস্তিষ্ক বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে তথ্য গ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করে। যখন আমরা বাসে ভ্রমণ করি, তখন আমাদের চোখ স্থির বস্তু দেখতে পায় (যেমন বাসের সিট), কিন্তু আমাদের ভেতরের কানের ভেস্টিবুলার সিস্টেম, যা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, গতি অনুভব করে।
এই দুটি বিরোধী তথ্য মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে, যার ফলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, এবং কখনও কখনও বমি হতে পারে।
কিছু অতিরিক্ত কারণ:
- গাড়ির গন্ধ: বাসের ভেতরের বদ্ধ পরিবেশ, ধোঁয়া, বা অন্যান্য অপ্রীতিকর গন্ধ বমি বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
- খাবার: ভ্রমণের আগে ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়া বমি বমি ভাব সৃষ্টি করতে পারে।
- ডিহাইড্রেশন: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না পান করলেও বমি বমি ভাব হতে পারে।
- চাপ: ভ্রমণের সময় মানসিক চাপ বা উদ্বেগও বমি বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিছু প্রতিকার:
জানালার পাশে বসা: বাইরের দৃশ্য দেখলে মস্তিষ্ক গতি বুঝতে সাহায্য করে এবং বমি বমি ভাব কমাতে পারে।
আদা: আদা বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। আদা চা বা আদা ক্যান্ডি খাওয়া যেতে পারে।
লেবু: লেবুর গন্ধ বমি বমি ভাব কমাতে পারে। লেবুর রস শুঁকতে পারেন বা লেবু চা পান করতে পারেন।
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস: গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
অ্যাকুপ্রেশার: কব্জির ভেতরের অংশে P6 নামক একটি অ্যাকুপ্রেশার পয়েন্ট আছে যা চাপ দিলে বমি বমি ভাব কমাতে পারে।
ওষুধ: কিছু ওষুধ বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে, যেমন ড্রামামিন। তবে, ওষুধ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার জন্য উপকারী হবে।

0 মন্তব্যসমূহ